মুক্তিযুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের যে চার নারীর ভূমিকা চির স্মরনীয়

0
152
বন্দর প্রতিনিধিঃ বন্দরে মুক্তিযুদ্ধে চার নারীর অবদান চির স্মরনীয়। ৭১ এর জুন মাস থেকে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত সংসার, ধর্ম, কর্ম এক পাশে রেখে বন্দরের মুক্তিযােদ্ধাদের পাশে  এসে
দাঁড়ায় এরা  ।চার থানার কমান্ডার মােঃ গিয়াস উদ্দিন (পরে বীর প্রতিক খেতাব প্রাপ্ত) এর নেতৃত্বে
প্রতি আস্থা রেখে শহীদ গেরিলা কোম্পানীর সমস্ত অন্ত্রের দায়িত্বে ছিল এই চার নারী
মুক্তিযােদ্ধাদের খাদ্যের ব্যবস্থা, রান্নার ব্যবস্থা, অন্ত্র,সংরক্ষন, অপারেশনের খবর রাখা
ছিল নৈতিক রুটিন ওয়ার্ক।বন্দর রাজবাড়ী এলাকার গৃহবধু গোলাম মােরশেদের “মা মমতাজ বেগম, কুশিয়ারার গৃহবধূ সাহেলা বেগম (সলে) মুক্তিযােদ্ধারা জেঠি বলাে সম্বোধন করতাে, মিরকুন্ডী গ্রামে সােবহান মিয়ার স্ত্রী খাতুন নেছা মুক্তিযােদ্ধারা নানী সম্বােধন করে ডাকতেন।চূনাভূড়ার বুরুন্দি গ্রামের জাহানার বেগম মুক্তিযােদ্ধারা মামী বলে সম্বােধন করতেন।
তখন নারায়ণগঞ্জ এ জনসংখ্যা ছিলো প্রায় ১,৭৫,০০০ জন। ঢাকা শহরকে রক্ষা করতে ২৯ শে মার্চ থেকে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী নারায়ণগঞ্জের চার পাশে অর্থাৎ শ্যামপুর থেকে পঞ্চবটি হয়ে ডিগ্নির চর, পঞ্চবটি হয়ে চাষাড়া হয়ে শীতলক্ষ্যা,টার্মিনাল ঘাট থেকে খানপুর, আইটিঙ্কুল হয়ে আদমজী সিদ্ধিরগঞ্জ হয়ে ডেমরা ফেরী ঘাট পর্যন্ত ১০ টি নিরাপত্তা বলয় তৈরী করে। নারায়ণগঞ্জের ১৭ টি মুক্তিযােদ্ধা গ্রুপ ভারতীয় মেলাঘর থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে এসে খুব একটা সুবিধা করতে পারে নাই বলে যুদ্ধের ইতিহাস বলে। অন্যদিকে বন্দরের মদনগঞ্জ হতে নরসিংদী রেল লাইনকে ওয়াল” হিসাবে পাকিস্থানীরা ব্যবহারে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। “শহীদ গেরিলা” কোম্পানীর চার থানা কমান্ডার মােঃ গিয়াস উদ্দিন বীর প্রতিকের শক্ত নেতৃত্বের কারণে অতি অল্প সময়ে ১৭ জুন নবীগঞ্জের  ডকইয়ার্ডে অপারেশন করে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর শক্তিকে চূর্ন-বিচূর্ন করে দেয়। হানাদারদের উদ্দেশ্য ছিল এই ডকইয়ার্ড থেকে ৩০০ বাের্ড ২৫০ টি ইঞ্জিনে ফিটিং শেষ হলে তারা স্প্রীডবােড নিয়ে গ্রামে গ্রামে হামলা করবে। হানদারদের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। ইহার পর ৪/৫ টি বড় অপারেশন বন্দরে হওয়াতে পাকিস্তানীদের মনােবল এক প্রকার হারিয়ে ফেলে আর সেই সুযােগ নেয় কমান্ডার গিয়াসউদ্দিন বীর প্রতিক। বন্দরের আয়তন ছিল ৫৫.৮৪ বর্গ কিলোমিটার। ১৭০ টি গ্রাম, ৬২ টি ছিল মহল্লা।মােঃ গিয়াস উদ্দিন কমান্ডারের নির্দেশে গ্রুপের মুক্তিযযােদ্ধারা প্রতিটি গ্রামেই রেকিব কাজ
সমাধা করি। নৌকায় ছিল নারী মুক্তিযােদ্ধা সাথে ছিল গ্রুপের দূর্ধ্ষ গেরিলা কমান্ডাের আলী
আজগর, দুলাল, মগা আজিজ ও জি.কে, বাবুল। ইহাতে কেহ বুঝতে পারে নাই আমাদের উদ্দেশ্য কি ছিল।প্রথমতঃ সেল্টার খোঁজা দ্বিতীয়ঃ কোন গ্রামের কোন যুবক মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছে কিনা, তা জেনে
নেওয়া তৃতীয়তঃ ভারত থেকে আমাদের অজান্তে অত্র এলাকায় কোন মুক্তিতিযােদ্ধা গ্রুপ গােপনে
কাজ করছে কিনা। চতুর্থতঃ অপারেশন ক্ষেত্রে কোন সেমসাইড যাতে না হয়। লাঙ্গলবন্দ
থেকে কলাগাছিয়া, মদনগঞ্জ থেকে মদনপুর আমরা  সমাপ্ত করেই, দাসেরগাঁও অপারেশন করে চারটি রাইফেল ছিনিয়ে নেই। এই অপারেশনে এক রাজাকারকে বেওনেট চার্জ করে দলের নূরু ভাই। সে পরে মারা যায়। তার নাম সেলিম (এই সেলিম নামে রাজাকারের নাম জেলা প্রশাসকের স্মৃতি স্ুম্ভে জড়িয়ে আছে) রেকিব কাজ সমাপ্ত হওয়ায় দেখা গেল বন্দরে এখনও কোন মুক্তিযােদ্ধার কোন গ্রুপ প্রবেশ করে নাই।
শহীদ গেরিলা কোম্পানীর মুক্তিযােদ্ধারা বন্দরে প্রথম প্রবেশ করি এবং ১৯৭১ সালে ১৫ ইং
ডিসেম্বর যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরাই মাঠে ছিল। বন্দরে মােঃ গিয়াস উদ্দিন বীর প্রতিকের নেতৃত্বে ৩৬ টি অপারেশন পাকিস্থান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অংশ গ্রহন করা হয় এর মধ্যে বন্দর বাজার বিহারীদের রাজাকার ক্যাম্প, নবীগঞ্জ পাওয়ার হাউজ, নবীগঞ্জ পাকবে ডকইয়ার্ড, লাঙ্গলবন্দ ব্রীজ, কল্যান্দী সম্মুখ যুদ্ধ, ব্ৰহ্মপুত্র নদ ত্রি মােহনায় গান বােড অপারেশন, গােদনাইল ESSO তৈল রক্ষনাগার, ১৪ ই ডিসেম্বর ভারতীয় বাহিনীর সাথে যৌথ উদ্দ্যেগে বন্দর রেল ষ্টেশনে সম্মুখ যুদ্ধ সহ আরাে অনেক অপারেশন। ঢাকাকে ক্রেক ডাউন করতে মেজর হায়দারের পরিকল্পনাকে সফল করতে মােঃ গিয়াস উদ্দিনের গ্রুপকে তিন জন ইপি.আর এর সাথে ছিল, আর আর জাতীয় গান (ট্যাংক বিধ্বংসী কামান) পাঠানাে হয়।চার নারী মধ্যে একজন ছাড়া বাকি তিনজনই ইন্তেকাল করেছে। চুনাভূড়ায় নারী জাহানারা মামী ৭১ অক্টোবর শেষ দিকে হানাদার বাহিনীর এলাকা আক্রমন করলে হানাদার বাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত হয়। সেই ৭১ এর নির্যাতন নিয়ে আজ ও বেঁচে আছে তিনি।
(লিখাটি সত্যায়িত করেছেন বন্দরের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোবারক হোসেন ও আব্দুস সাত্তার।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here