সরকার উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টায়: ফখরুল

0
11

‘(সালথায়) বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীসহ নামে-বেনামে চার হাজার সাধারণ মানুষকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের প্রমাণ করে সরকার মহামারি করোনা মোকাবিলা নয়, বরং মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের দমন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’

ফরিদপুরের সালথায় সহিংসতার ঘটনায় সরকার উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তার করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সই করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সালথায় গত সোমবার রাতে তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায় হামলাকারীরা। ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলা চত্বরে লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢুকে থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালও ভাঙচুর করা হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে জানা গিয়েছিল, লকডাউন কার্যকর করার চেষ্টায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগবিতণ্ডা কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। হামলা ও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সালথার ওই ঘটনার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন নিপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন দলটির মহাসচিব।

‘সালথায় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নামে-বেনামে চার হাজার জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও ইতোমধ্যে ২১ জন গ্রেপ্তার এবং হয়রানি-নির্যাতন চলছে’ অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়, মির্জ ফখরুল এসব ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারসহ গ্রেপ্তাকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি ও সালথায় স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিও জানান তিনি।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফরিদপুরের সালথায় গত ৫ এপ্রিল করোনা মোকাবেলায় সরকারের অপরিকল্পিত লকডাউনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তার কর্মচারী একজন দোকান কর্মচারীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের প্রতিবাদে স্থানীয় জনসাধারণ ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

‘জনসাধারণের বিক্ষোভ দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ ও একজনকে হত্যার পর উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপাতে উল্টো বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীসহ নামে-বেনামে চার হাজার সাধারণ মানুষকে আসামি করে মিথ্যা মামলা দায়ের প্রমাণ করে সরকার মহামারি করোনা মোকাবিলা নয়, বরং মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের দমন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমানে সালথায় পুলিশি গ্রেপ্তারি অভিযানের কারণে সারা এলাকা মানুষশূন্য হয়ে গেছে। সেখানে ভয়, আতঙ্ক ও বিভীষিকাময় পরিবেশ বিরাজ করছে।

‘সালথার ঘটনার সাথে বিএনপি কোনোভাবে জড়িত না থাকলেও কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিস্থিতির ভয়াবহতা রোধে সরকার কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে গত ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য দেশে লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকারঘোষিত লকডাউনের বিরুদ্ধে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।

‘প্রকৃত অর্থে লকডাউন বলতে যা বোঝায় রাস্তাঘাটে তার সামান্যতম চিত্রও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বাস্তবভিত্তিক ও পরিকল্পিত কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে সরকার লকডাউন সঠিকভাবে কার্যকর করতে ব্যর্থ হচ্ছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here