শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি: ৩০ মরদেহ উদ্ধার, চলছে হস্তান্তর

0
176

মাহমুদুল হাসান সিরাত, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী কার্গোর ধাক্কায় ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়েছে। লঞ্চ দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৮ জনে।

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্বজনদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ৩৩ জনের নিখোঁজ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া নিহতদের পরিবারকে লাশ দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছে প্রশাসন। ডুবে যাওয়া লঞ্চ সাবিদ আল হাসান থেকে ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুই বেশি। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। এছাড়াও রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মিরপুরেরও কয়েকজন রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা হলেন-

মুন্সিগঞ্জে কোর্টগাও এলাকার মুন্সীগঞ্জের উত্তর চর মসুরার পখিনা (৪৫), একই এলাকার বিথী (১৮) ও তার এক বছর বয়সী মেয়ে আরিফা, দোলা বেগম (৩৪), মুন্সীগঞ্জ সদরের রুনা আক্তার (২৪), মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দির সোলেমান বেপারী (৬০) ও তার স্ত্রী বেবী বেগম (৬০), মুন্সীগঞ্জের মালপাড়ার সুনিতা সাহা (৪০) ও তার ছেলে বিকাশ (২২), মুন্সীগঞ্জ সদরের প্রতিমা শর্মা (৫৩), মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি চর কিশোরগঞ্জের মোঃ শামসুদ্দিন (৯০) ও তার স্ত্রী রেহেনা বেগম (৬৫), বরিশালের উটরা উজিরপুরের হাফিজুর রহমান (২৪), তার স্ত্রী তাহমিনা (২০) এবং এক বছর বয়সী শিশুপুত্র আবদুল্লাহ, মুন্সীগঞ্জের দক্ষিণ কেওয়ারের নারায়ন দাস (৬৫) ও তার স্ত্রী পার্বতী দাস (৪৫), নারায়ণগঞ্জের বন্দরের কল্যান্দী এলাকার আজমির (২) (ঘটনার সময় সে দাদা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ছিলো, দাদা সাইফুল বেঁচে গেছেন), মুন্সীগঞ্জ সদরের শাহ আলম মৃধা (৫৫), একই এলাকার মহারানী (৩৭), ঢাকার শনির আখড়া এলাকার আনোয়ার হোসেন (৪৫), তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৩০) ও তাদের ৭ মাস বয়সী মেয়ে মানসুরা, মুন্সীগঞ্জ সদরের ছাউদা আক্তার লতা (১৮), শরিয়তপুরের নড়িয়ার আবদুল খালেক (৭০), ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার মোছাঃ জিবু (১৩), মুন্সীগঞ্জের খাদিজা বেগম (৫০), নারায়ণগঞ্জের বন্দরের দক্ষিন সাবদির নুরু মিয়ার ছেলে মোঃ নয়ন (১৯) ও সাদিয়া (১১)।

 

রোববার সন্ধ্যায় প্রায় ৭০ জন যাত্রী নিয়ে সদর উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চটি ডুবে যায়। প্রায় ১৮ ঘণ্টার চেষ্টায় লঞ্চটিকে ডাঙ্গায় তোলায় হয়। দুপুরে বিআইডাব্লিউটিএ’র মহাপরিচালক কমোডর সাদেক উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে লাশের খোঁজ চালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ বারিক জানান, স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ৩৩ জন নিখোঁজের একটি তালিকা করা হয়েছে। দুপুরে উদ্ধার হওয়া ২৪ জনকে শনাক্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা করা হয়েছে।

লঞ্চডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসন থেকে খোলা কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, নিহতদের একটি তালিকা করা হয়েছে। লঞ্চডুবির ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বিকালে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করে সাবিত আল হাসান। কিছু দূর যাবার পরে ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চটি। সৈয়দপুর এলাকায় নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর পাইলিং কাছে একটি কার্গো জাহাজ এটিকে ধাক্কা দিলে ডুবে যায়। লঞ্চ থেকে কেউ কেউ সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও অনেকেই লঞ্চের সাথেই তলিয়ে যান।

মণ্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আরেফিন জানান, জাহাজটি থেকে সব লাশ বের করা হয়েছে। দুপুরে উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও বিকাল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কাজ করেছে।