শাহজাদপুরে ২ পক্ষের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩০

0
190
জহুরুল ইসলাম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:  সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আজ শুক্রবার ভোরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর প‍ৌর শহরের পারকোলা গ্রামে আজ ভোরে বর্তমান পৌর কাউন্সিলর বেলাল হোসেন সহ তার লোকজন ও সাবেক কাউন্সিলর পীযুষ এর লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হয়। পীযূষ গ্রুপের ৮ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পীযূষের ছোট ভাই অরুপ আহমেদ জানান, বেলাল হোসেন কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার আচরণে ব‍্যাপক পরিবর্তন আসে। গ্রামের কৃষকদের জমি থেকে জোড়করে মাটি কেটে বিক্রি করে, এতে জমিগুলো গভীর গর্তে পরিণত হয়। এছাড়া জলাশয়গুলোর মাছ নিজেই জোরপূর্বক আহরণ করে বিক্রি করে। গ্রামের মানুষ মাঝে মধ্যেই প্রতিবাদ করে, তাই এলাকার জনসাধারণকে কোনঠাসা করার উদ্দেশ্যে কাউন্সিলর বেলাল মেয়াদহীন একটি সরকারি জলাশয়ে নিজেই বিষ প্রয়োগ করে গ্রামবাসীর নাম দেয়। তার এই অভিযোগ কেউ পাত্তা না দিলে সে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।তাই প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আজ ভোরে আমরা সবাই যখন ঘুমিয়ে ছিলাম তখন কাউন্সিলর বেলাল এর নেতৃত্বে প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশো মানুষের একটি বাহিনী আমাদের বাড়ি ঘরে আতর্কিত হামলা চালায়। এসময় আমাদের পরিবারের লোকজন এবং  প্রতিবেশীদের মারধর করে মারাত্মক জখম করে। নারীদেরও শ্লীলতাহানীসহ মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা, পাইপ, হাসুয়া, ফালা ছিল। হামলাকারীরা এসময়  কয়েকটি ককটেল বোমারও বিস্ফোরণ ঘটায়।
এই বিষয়ে কাউন্সিলর বেলাল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আজ ভোরে আমার দুইজন লোক তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে আসার সময় তাদের উপর পীষুষ, তার ভাই ও সঙ্গীয় লোকজন হামলা করে আহত করে। এসময় আমাদের লোকজন প্রতিবাদে এগিয়ে এলে তারা পূনরায় হামলা চালায়। এতে আমাদের প্রায় ১৫ জন আহত হয়, আমি সেই আহতদের চিকিৎসার জন‍্য বর্তমানে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে আছি।
এই বিষয়ে ঘটনাস্থল থেকে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান জানান, বর্তমান কাউন্সিলর বেলাল ও সাবেক কাউন্সিলর পীযূষ এর মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ গ্রুপিং চলে আসছিল। মাঝেমধ্যেই দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে, আমরা প্রতিবারই অপ্রীতিকর কিছু ঘটার আগেই আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনি। আজও সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমি নিজে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। তিনি আরো জানান ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনায়  উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে ব‍্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here