শাহজাদপুরে বৃদ্ধা ও যুবকের পৃথক দু’টি লাশ উদ্ধার 

0
184
জেলহক হোসাইন,  (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা:   সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের বাদলবাড়ি ও বেলতৈল ইউনিয়নের খাস সাতবাড়িয়া উত্তরপাড়া পৃথক দুই স্থান থেকে বৃদ্ধা ও যুবকের ২ লাশ উদ্ধার করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার উদ্ধারকৃত ২টি লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। থানায় পৃথক ২টি ইউডি মামলা হয়েছে।
থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গতকাল বুধবার গভীর রাতে উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের বাদলবাড়ি মাঠের পাশে জমি থেকে আব্দুল মালেক (৩৫) নামের এক যুবকের লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। নিহত আব্দুল মালেক রতনকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামের হাজী সিরাজের ছেলে।
মালেকের পরিবার জানায়, মালেক গতকাল বুধবার তার একটি জমি বিক্রি করে, বিক্রি করার টাকা নিয়ে সে বাড়িতে ফেরেনি। মালেকের ভাগিনা সাগর জানায় গতকাল সন্ধ্যায় মামার কাছ থেকে টাকা আনার জন্য স্থানীয় রত্নার বাড়িতে যাই, সেখানে মালেক, রত্না, জলিল, জয়নাল, ও মনিকে মামার সাথে দেখতে পাই। রত্নার বাড়ির পাশ থেকেই পরে মামার মৃতদেহ পাওয়া যায়। তাদের ধারণা জমি বিক্রির টাকার জন্যই মালেক কে হত্যা করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রত্নার বাড়িতে গিয়ে তার ঘর তালাবদ্ধ দেখতে পাওয়া যায় তার বোন সাবিনা জানায়, গতকাল তাদের বাড়িতে এসেছিল পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য। রত্না কোথায় আছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানায় সকাল থেকেই তাকে দেখা যাচ্ছে না। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় অভিযুক্ত রত্না (৩০) একজন কুখ্যাত মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী। আরেক অভিযুক্ত জলিল এই মাদক সম্রাজ্ঞীর বোন জামাই।
অভিযুক্ত জলিলের নগরডালা গ্রামে বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি, থাকার ঘরটি তালাবদ্ধ দেখা যায়। এলাকাবাসী জানায় ঘটনার দিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহত মালেক, মাদক সম্রাজ্ঞী রত্না, জলিল ও মনি এক‌ই সাথে ঘোরাফেরা করে ও মদ্যপান করে।
অপরদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের খাস সাতবাড়িয়া উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে কোহিনূর বেগম (৬৫) নামের অপর এক বৃদ্ধা মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। গত বুধবার রাত ৯ টায় বসতঘরে গলায় ফাঁস নিয়ে কোহিনূর বেগম আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। এদিকে, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী সাবেক সেনা সদস্য আব্দুল খালেক কর্তৃক পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে কোহিনূর বেগমকে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর তড়িঘড়ি করে নিহতের লাশ দাফনের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশী হস্তক্ষেপে তা ভেস্তে যায়।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমান বলেন, ‘লাশ ২টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here