রোয়াংছড়িতে কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি: বিল টাকা উত্তোলনে চেষ্টারে অভিযোগ

0
314

হ্লাছোহ্রী মারমা রোয়াংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি : বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে ৯৫ লাখ টাকার ব্যয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কার্যালয় কাম স্টোর ভবন নির্মাণে কাজ শেষ হতে না হতে তড়িঘড়ি করে বিল কাগজের জাল স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলনে চেষ্টারের অভিযোগ পাওয়া গেছে ঠিকাদার মো: ফয়েজ আহম্মদ টিপু,এহাসান ও সহকারি প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো: মোর্শেদুল আলমের বিরুদ্ধে। সূত্রে জানা গেছে,বিল উত্তোলনে হুড়োহুড়ি করে বিনা অনুমতিতে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের প্রবেশ করে ফয়েজ মোহাম্মদ টিপু ঠিকাদারে কাজে শেয়ারদা মো: এহাসান বিল কাগজ ও ছাড়পত্রে কপিতে শীল মেরে জালিয়াতি স্বাক্ষর করা অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়,এ বিল পাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য সহকারি প্রকৌশলী মো: মোর্শেদুল আলমের কথায় অবৈধ পন্থায় অফিসকে ম্যানেজ করে বিল উত্তোলনে চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে সচেতন মহলে আলোচনা ঝড় উঠেছে ঠিকাদারে বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্তে দাবি করছে এলাকার সচেতনমল। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট অফিসের সূত্রে আরো জানা গেছে, মের্সাস চারু কর্পোরেশন লাইসেন্সের নামে ঠিকাদার ফয়েজ মোহাম্মদ টিপু ও ঠিকাদার কাজের শেয়ারদার মো: এহাসান মিলে কাজ শুরু থেকে আসল নাম গোপন রেখে ঠিকাদার মো: লিয়াকত ও ম্যানেজার মো: হাসান নামে মিথ্যা পরিচয়ের কাজটি করছে। পরে জানা যায়, ঠিকাদার প্রকৃত নাম ফয়েজ মোহাম্মদ টিপু, কাজের শেয়ারদার মো: এহাসান ও প্রকৌশলী মো: মোর্শেদুল আলম ও শেয়ারদারে রয়েছে বলে অভিয়োগ পাওয়া গেছে। ওই স্টোর ভবন নির্মাণে নিজের ঠিকাদারে শেয়ারদার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত দেখভাল দায়িত্বে ছিলেন কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা দায়িত্বরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী মো: মোর্শেদুল আলম। ওই সহকারি প্রকৌশলী মো: মোর্শেদের দায়িত্বে সুবাধে ঠিকাদার ফয়েজ মোহাম্মদ টিপু ও ঠিকাদার কাজের শেয়ারদার মো: এহাসান যোগসাজশে নির্মাণে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে নির্মিত স্টোর ভবনটি অদক্ষ মিস্ত্রি দিয়ে তড়িঘড়ি ও এবড়োথেবড়ো ভাবে শেষ করে দেন। সে কাজটি করলে ও অতি নিম্মানে কাজ করা হচ্ছে। এ কাজ থেকে নিজেদের দায়ভার ছাড়তে মন্ত্রীকে নিয়ে উদ্বোধন করা জুড়েসোড়ে চালাচ্ছে। বিল করা সময় জানা যায়, মো: এহাসান বিনা অনুমতিতে প:প: অফেসের প্রবেশ করে বিনা অনুমতিতে বিল কাগজে শীল মেরে ও কর্মকতা স্বাক্ষরকে জাল স্বাক্ষর করেন। পরে অফিসের জানাজানি হলে মো: এহাসান পালিয়ে যাওয়ার সময় অর্ধপথ থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়। পরে কর্মকর্তা শান্তিজয় সাথে মিমানসা করে পুনরায় কাকুটি বিনতি করে ক্ষমা চেয়ে অনুস্বাক্ষরে জন্য অনুরোধ করলে বিল ও ছাড়পত্রে অনুস্বাক্ষর দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এব্যাপারে মো: এহাসানের কাছে মোঠুফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন এটা মিথ্যা কথা। এখানে বড় বড় বোয়াল মাছ আছে বা ঢাকায় আটকৃত জে.কে শামীমও আছে বলে ফোনের লাইন কেটে দেন। স্বাস্থ্য সহকারি প্রকৌশলী মো: মোর্শেদ সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন নির্মাণ কাজটি শেষ হয়েছে। আর করা কিছু নাই,করতে হলে পরে করব। আপনারা যা লিখবে লিখেন। আমরা আগামী (২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০) মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে নিয়ে এ স্টোর ভবন উদ্বোধন করব। উপজেলা প:প: কর্মকর্তা শান্তিজয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন স্টোর নির্মাণে কাজটি অতি নিম্মমানে কাজ করা হয়েছে। এ কারণে ঠিকাদারে চূড়ান্ত বিলের আমার স্বাক্ষর না দেওয়ায় কাজের শেয়ারদার মো: এহাসান আমার অফিসের লোক না থাকার অবস্থায় প্রবেশ করে এলোপাতারী করে শীল মেরে জালিয়াতি স্বাক্ষর করে নিয়ে গেছে। বান্দরবানে জেলা প:প: উপ পরিচালক (ডিডি) ডাক্তার অংচালু বলেন স্টোর ভবন নির্মাণে কাজ শেষ করছে মর্মে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। কারণ এ ভবন নির্মাণে দেখভাল করার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউ.এন.এইচ.এফ.পিও) সহ ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি আছে। এ উপজেলা কমিটি থেকে স্বাক্ষর নিয়ে আসছে। তাই আমিও আমার স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসব কথা বলতে পারবেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মংহ্লাপ্রু বলেন এব্যাপারে আমি কিছুই জানেনা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। প্রসঙ্গত পরিবার পরিকল্পনা ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে উপজেলা স্টোর ভবন নির্মাণে প্রাক্কলিত প্রায় ৯৫ লক্ষ টাকার বরাদ্দ দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয় কর্তৃক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে অবকাঠামো উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কার্যালয় কাম স্টোর ভবন নির্মাণে মের্সাস চারু কর্পোরেশন লাইসেন্সের নামে ঠিকাদার ফয়েজ আহমদ টিপু ও শেয়ারদার মো: এহাসান মিলে এ কাজটি করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here