রং পাল্টানো সাংসদের ঘাতক কার্গো চালকের দাবি -‘দেখি নি যাত্রীবাহী লঞ্চটিকে’ !

0
447

মাহমুদুল হাসান সিরাত

সরকারের লকডাউন ঘোষনা করায় মুন্সিগঞ্জের মানুষ নারায়ণগঞ্জে এসেছিলো জরুরী কাজ করার জন্য। কেউ ডাক্তার দেখাতে ,কেউবা কর্মস্থল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে একগুচ্ছ স্বপ্ন নিয়ে ফিরছিলেন নিজ ভুমিতে।

সময়টা ছিলো সন্ধা ৬ টা। নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার পাথরঘাটে তার নিজস্ব গতিতে মুন্সিগঞ্জে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ফিরছিলেন সাবিত আল হাসান নামের লঞ্চটি। কিন্তু তখনিই বেপোয়ারা গতি’র এস.কে.এল-৩ কার্গো জাহাজটি সাবিত আল হাসান নামক লঞ্চটিকে সজোড়ে আঘাত করে। ঘাতক কার্গোটি ধাক্কা দিয়ে বেশ কিছুক্ষন যাবৎ টেনে নিয়ে উপর দিয়ে চলে যায়। ততক্ষনে সব শেষ।

শীতলক্ষার গভীরে তলিয়ে যায় লঞ্চটি। যাত্রীদের আহাজাড়িতেও থামেনি সেই কার্গোটি। একে একে লাশ ভাসতে শুরু করে , শেষে ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এমন দূর্ঘটনার পর দ্রত লাশ উদ্ধারের পূর্বেই কার্গো জাহাজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতো পুরো জাহাজটির রঙ পরিবর্তন করে ফেলে ।

ঘটনার পর থেকে পুলিশ, লঞ্চ মালিক সমিতি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধাক্কা দেওয়া কার্গোটির নাম এমভি এসকেএল-৩, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর এম-০১-২৬৪৩। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাজটির মালিক বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসকে লজিস্টিকস।

ঘাতক কার্গো জাহাজ এসকেএল-৩ এর রং বদলে ফেলা হয়েছে। তবে জাহাজটির সামনের অংশের বাংলা ও ইংরেজিতে ‘এসকেএল-৩’ লিখাটি এখনো রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুর-২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া নয়ানগর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে জাহাজটি আটক করে কোস্টগার্ডসরেজমিনে দেখা যায়, দুর্ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজে সে জাহাজটির বেশির ভাগ অংশে নীল রং থাকলেও বর্তমানে সে নীলের স্থলে ধূসর রং করা হয়েছে। তবে জাহাজটির বিভিন্ন অংশে প্রলেপ দেয়া ধূসর রংয়ের মাঝেও আগের নীল রংয়ের চিহ্ন দেখা যায়।একই সঙ্গে জাহাজের সামনের অংশে নামের নিচের এম-০১-২৬৪৩ লেখাটি ছিললঞ্চ দুর্ঘটনার চারদিন পর বৃহস্পতিবার কার্গো জাহাজটি আটক করা হয়। এ সময় আটক করা হয় জাহাজের ১৪ কর্মচারীকেও।

তারা হলো মাস্টার অহিদুর জামান (৫০), ইঞ্জিন ড্রাইভার মজনু মোল্লা ( ৩৮), সুকানী মো. আনোয়ার মল্লিক (৪০), মো. নাজমুল মোল্লা (৩০), গ্রীজার হৃদয় হাওলাদার (২০), গ্রীজার মো. ফারহান মোল্লা (২৭), লস্কর রাজীবুল ইসলাম (২৭), মো. আব্দুল্লাহ (২০), মো. নূরল ইসলাম (৩৫), মো. সাকিব সরদার (২০), মো. আফসার (১৮), মো. সাগার হোসেন (১৯), আলিফ শেখ (১৯) ও বাবুর্চি আবুল বাশার শেখ (৩৮)।

নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশ সুপার (এসপি) মিনা মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন,কোস্টগার্ড কার্গো জাহাজটি সহ ১৪জনকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। লঞ্চ ডুবে যাওয়ার সময় ১৪জনই এ কার্গো জাহাজে ছিল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

কার্গো জাহাজটি নরসিংদীর একটি ডকইয়ার্ড থেকে মেরামত করার পর মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার দিকে যাচ্ছিল। মূলত যাওয়ার পথেই কার্গো জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে লঞ্চটি ডুবে যায়। জাহাজটি সার্ভে সনদ ছিল না। ফলে সনদ ছাড়া নদীতে চলাচলে তাদের কোন অনুমতি নেই।

রঙ পরিবর্তন হলে কেউ আর এই জাহাজের খোজ পাবে না এমন চিন্তা থেকে রঙ পরিবর্তন করে বলে জানায় জাহাজ থেকে আটককৃতরা । এরপর যখন ঘাতক জাহাজটির নাম, মালিকের নাম ও সকল তথ্য প্রকাশ পেয়ে যায় তথন ক্ষমতাসীনদের বিতর্ক এড়াতে আটক করে কার্গো জাহাজ টি।

কার্গোর চালক ওয়াহিদুজ্জামান দাবি করেন, ‘লঞ্চটি আমার বাম পাশে ছিল। আমি লঞ্চটিকে দেখতেই পাইনি। ধাক্কা লাগার পর বুঝতে পারি, কিছুর সঙ্গে লেগেছে। তখন ভয়ে কার্গো চালিয়ে সামনের দিকে যেতে থাকি। চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় কার্গো নিয়ে ঘুরেছি। পরে কার্গোর ওপরের অংশের নীল রং বদলে ছাই রং করে ফেলা হয়। নিচের অংশে আর রং করা হয়নি। ওপরে রং করায় কার্গোর নামটি ঢেকে যায়।’

এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে কার্গো জাহাজের চালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানায় মামলা করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিøউটিএ)।

তবে মামলায় কার্গো জাহাজ, এর চালক বা মালিক; কারোই নাম উল্লেখ করা হয়নি বলে জানান বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা।

এজাহারে কেন কার্গো জাহাজ এসকেএল-৩ এর নাম নেই, জানতে চাইলে মামলার বাদী বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা বাবুলাল বৈদ্য বলেন, ভিডিও ফুটেজে কোথাও ওই জাহাজের নাম দেখা যায়নি। নিশ্চিত না হওয়ায় অজ্ঞাত কার্গো জাহাজের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তের অভিযুক্ত কার্গো জাহাজের নাম বেরিয়ে আসবে। (বিস্তারিত আসছে )

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here