মৃত্যুও আলাদা করতে পারেনি মা-সন্তানকে

0
154

শত কষ্টেও মা সন্তানকে বুকে আগলে রাখেন। শত বিপদ-ঝঞ্জাও সন্তানের হাত ছেড়ে দেন না। এমনই এক ঘটনার দেখা মিলল আবার। বুকে সন্তানকে আগলে রাখা অবস্থায় এক মাকে শীতলক্ষা নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৫ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জে লঞ্চডুবিতে উদ্ধার করা লাশের মধ্যে মা-সন্তানের এমন দৃশ্য অনেকের চোখে জল এনে দিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া নারীর নাম-তাহমিনা (২০)। কোলে আগলে রেখেছিলেন এক বছর বয়সী পুত্র আব্দুল্লাহকে। তাদের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরের উটরায়। লঞ্চে থাকা তাহমিনার স্বামী হাফিজুর রহমানও (২৪) মারা গেছেন।

শীতলক্ষায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ সাবিদ আল হাসান থেকে ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা লাশের মধ্যে নারী ও শিশুই বেশি। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। এছাড়াও রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মিরপুরেরও রয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় প্রায় ৭০ জন যাত্রী নিয়ে সদর উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চটি যুবে যায়। প্রায় ১৮ ঘণ্টার চেষ্টায় লঞ্চটিকে ডাঙ্গায় তোলা হয়।

দুপুরে বিআইডাব্লিউটিএ’র মহাপরিচালক কমোডর সাদেক উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে লাশের খোঁজ চালিয়ে যায়।

রোববার সন্ধ্যা থেকে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শীতলক্ষা নদীর পাড়ে স্বজনদের ভীড় বাড়তে থাকে। তাদের কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে উঠে। স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ৩৩ জন নিখোঁজের একটি তালিকা করে প্রশাসন। পরে সোমবার রাত পর্যন্ত ২৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বিকালে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সাবিত আল হাসান। কিছুদূর যাবার পরে ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চটি। সৈয়দপুর এলাকায় নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষা সেতুর পাইলিং কাছে একটি কার্গো জাহাজ তাকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়। লঞ্চ থেকে সাতরিয়ে কেউ কেউ উঠতে পারলেও অনেকেই লঞ্চের সাথেই তলিয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here