মিলের ভিতর গণকবরে আলোক শয্যা ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ২শ কোটি টাকার সরকারী ও মুক্তিযোদ্ধার সম্পত্তি ৪৮ বছর ধরে বেদখল

0
351

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ পৌর শহরের জগথা মৌজায় ২০০ কোটি টাকার সরকারি ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সম্পত্তি ৪৮ বছর ধরে বেদখল রয়েছে। কর্তৃপক্ষের গড়িমশির কারণে ঐ সম্পত্তি উদ্ধার হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা যায়, ওই রাইস মিলের ভিতরে ৭১-এর গণকবর রয়েছে। গত ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ পীরগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষ্যে মিলের ভিতরে থাকা গণকবরে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউর করিম, থানা অফিসার ইনচার্জ প্রদীব কুমার রায়, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইব্রাহিম খান ও সুশীল সমাজ উক্ত মিলে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোক শয্যা করেছে। পাকিস্তানের দোশরা বিভিন্ন এলাকা থেকে নর-নারী বাঙালিদেরকে ধরে নিয়ে এসে ধর্ষণ নিযাতন করে গণকবরে পরিণত করেছে। গোপী কৃষাণ দাগা রাজাকাদের সাথে সুসম্পক করে বহু বাঙালীকে হত্যা করে এ মিলের ভিতরে গণ কবর দিয়েছে বলে একাধিক ও বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে।গভীর ভাবে তদন্ত করলে পীরগঞ্জের কিছু রাজাকারের সন্ধান পাওয়া যাবে। তারা এখন মিলটি ধরে রাখার জন্য তৎপর। পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের উত্তরে জগথা মৌজায় অলিম্পিয়া অটোমেটিক রাইস মিলের ভিতরে ৪৪৭ নং খতিয়ানে ৫৯৭ নং দাগে ১৪.৯৯ একর জমির মধ্যে ৭.৯৯ একর জমি ভাকুড়া গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের পুত্র ফজলার রহমানের নামে এবং ২৭নং এস এ খতিয়ানে ৬০৩ ও ৬১১নং দাগে বিশ্বনাথ রাইস মিল নামে ৩.৮০ একর জমি এস এ খতিয়ানে নাম রয়েছে। বিশ্বনাথ রাইস মিলের মালিক বিশ্বনাথ মারোয়ারী ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় মিল ও পিতলের ব্রয়লার ফেলে রেখে দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে উক্ত মিল ও ৩.৮০ একর জমি দিনাজপুর জেলার বাসুনিয়া পট্টির রাজাকার গোপী কৃষাণ দাগা তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে ভাড়া নেয়। এরপর মিল সংলগ্ন ফজলার রহমানের ব্যক্তি নামীয় ২১নং এস এ খতিয়ানের ৬.৫১ একর জমি প্রতারণা মূলকভাবে ১৯৫৫ সালে গোপী কৃষাণ দাগা কতিপয় সরকারি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে অধিগ্রহণ করান। পরবর্তীতে গোপী কৃষাণ দাগা ভাড়ার শর্ত ভঙ্গ করে মিল ও জমি দিনাজপুরের জনৈক আজিজুল হক চৌধুরী এর নিকট দলিল মুলে বিক্রয় করেন। আজিজুল হক চৌধুরী উক্ত জমি ১৯৭৭-৭৮ অর্থ বছরে সরকারি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ঐ মিল ও জমি তার নামে খারিজ করে নেন। পরবর্তীতে বিশ্বনাথ রাইস মিলের নাম পরিবর্তন করে দি অলিম্পিয়া অটোমেটিক রাইস মিল নাম করণ করা হয়। এদিকে ঐ মিলের ভিতরে ২১নং এস এ খতিয়ানের ৫৯৭নং দাগে অধিগ্রহণ করা ৬.৫১ একর জমির রেকডীয় মালিক মরহুম ফজলার রহমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা দাবি করে গত ২০০৭ ২৫ ফেব্রæয়ারি পীরগঞ্জ ভূমি অফিসে আবেদন করেন। দীর্ঘ শুনানি ও উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে আজিজুল হক চৌধুরীর নাম খারিজটি বেআইনি পন্থায় ও আইন সিদ্ধ না হওয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পীরগঞ্জ গত ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি আজিজুল হক চৌধুরীর নামে দেওয়া উক্ত মিলের জমির খারিজটি বাতিল করে দেন। পরে তদ্বির করে আজিজুল হক চৌধুরীর লোকজন জেলা প্রশাসন থেকে তার নামে আবারো খারিজ বহাল রাখার চেষ্টা করলেও ২০১৩ সালে তা আবারো বাতিল হয়। তখন থেকেই ঐ রাইস মিলের ভিতরে থাকা ১০.৩১ একর জমির বর্তমান মালিক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও ফজলার রহমান। যার মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা। বর্তমানে উক্ত মিল ও সরকারি সম্পত্তিতে অলিম্পিয়া অটোমেটিক রাইস মিল রয়েছে। দিনাজপুর জেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী উক্ত মিল পরিচালনা করছেন। মিল চাতাল ও রাসায়নিক সারের গুদাম ছাড়াও ঐ সম্পত্তির সিংহ ভাগ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বিশাল লিচু ও আম বাগান করে বছরে প্রায় কোটি টাকা মুনাফা করেন রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী। যার উদ্ধারে সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজাউল করিম জানান, আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সার্বিক বিষয়ে রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী জানান মিল ও জমির কাগজ পত্র সঠিক আছে। কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা বেআইনিভাবে তাদের খারিজটি বাতিল করেছেন। বিষয়টি এলাকার সর্বস্থরের জনগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নের জাদুকর, দেশরত্ন শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here