ভোলার লালমোহনে ৫ম শ্রেণির মডেল টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এলাকায় তোলপাড়

0
215
স্টাফ রিপোটার 
ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির মডেল টেস্ট পরীক্ষার ইংরেজী প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সোমবার ইংরেজী পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বদরপুর হাজীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার সময় তাদের হাতে একই প্রশ্ন পায় শিক্ষকরা। ওই শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করলে এ প্রশ্ন নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে এনেছে বলে জানান।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ভোলা জেলার প্রত্যেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়মানুযায়ী ৫ম শ্রেণির মডেল টেস্ট পরীক্ষা চলছে। নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুন অর রশিদ রবিবার বাংলা পরীক্ষার পরিবর্তে ইংরেজী পরীক্ষা নেয়। ওই প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীরা পশ্ববর্তী বিদ্যালয়ের সহপাঠিদেরকে দেয়। ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অগ্রিম প্রশ্ন পেয়ে নকলসহ অতিরিক্ত প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে। এঘটনা শিক্ষকদের নজরে পড়লে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়।
হাজীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জামশেদ জানান, রবিবার সকল স্কুলে বাংলা পরীক্ষা ছিল। নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রবিবার বাংলা পরীক্ষার পরিবর্তে ইংরেজী পরীক্ষা নিয়েছে। যে কারণে ইংরেজী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া জানান, রবিবার বাংলা পরীক্ষার পরিবর্তে ইংরেজী পরীক্ষা নিয়েছে। ওই প্রশ্নপত্র সাদিয়া তার সহপাঠি অন্য স্কুলের এক ছাত্রকে দেয়। ওই ছাত্র প্রশ্ন নিয়ে হাজীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা যায়। এদিকে এঘটনা জানাজানি হলে নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোমবারও ইংরেজী পরীক্ষা নেয়া হয়। নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: হারুন অর রশিদ অপকর্ম ঢাকতে পরপর দুইদিন শিক্ষার্থীদের ইংরেজী পরীক্ষা নিয়েছে। নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুন অর রশিদকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা জানতে ফোন করলে তিনি বলেন, আমি ফোনে কথা বলতে পারবো না। সরাসরি এসে কথা বলবো।
এব্যাপারে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র দাস জানান, এসব গুজব এর কোন বাস্তবতা নাই। আমরা খবর নিয়েছি এ ঘটনার কোন ভিত্তি নাই। এব্যাপারে লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আইয়ূব আলীকে ফোন করলে তার সেল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here