ফতুল্লায় বিধবার জায়গা দখলের অভিযোগ

0
331

মো. ওয়ারদে রহমান :নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার নুর হোসেন চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে নতুন মসজিদ সংলগ্ন মৃত হানিফ মিয়ার ২ শতাংশের বাড়ি। হানিফ মিয়ার ৬ মেয়ে ১ ছেলে ও স্ত্রী লুৎফা বেগম (৬৫) কে রেখে ৯ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। ফরাজ সুত্রে মৃত হানিফ মিয়ার ২ শতাংশ জায়গা থেকে ছেলে আমিন ০.৯ শতাংশের মালিক হয়। মেয়েরা তাদের অংশ বিধবা মা’কে দিয়ে দেয়। লুৎফা বেগমের ছেলে আমিন নেশাখোর, নেশার টাকার জন্য পার্শ্ববর্তী মফিজ খানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজের অংশ বিক্রি করে দেয় প্রায় ৪ বছর আগে। সেই থেকে মফিজ খান তার ক্রয়কৃত জায়গা বুঝে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে এবং জায়গা দখলের জন্য বিধবা লুৎফা বেগমকে হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায় লুৎফা বেগম স্থানীয় যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লবকে জানালে তিনি উভয়পক্ষকে ডেকে সালিশ করে। এই মর্মে সিদ্ধান্ত দেয় যে, ছেলে আমিনের কাছ থেকে জায়গা ক্রয়কৃত মালিক মফিজ খান লুৎফা বেগমের কাছ থেকে বাকী ১.১ শতাংশ জায়গা ক্রয় করবে ১১ লক্ষ টাকা ও বাড়ির বকেয়া গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল ও পানি বিল পরিশোধ করে দিবে। লুৎফা বেগম ও মফিজ খাঁন উভয়ই এই বিচারের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। বর্তমানে লুৎফা বেগম অসুস্থ হয়ে তার এক মেয়ের বাড়িতে থাকছে চিকিৎসার জন্য। এমতাবস্তায় খালি বাড়িতে মফিজ খান তার দুই ছেলে নাইম (৩৮), আলমগীর (৪০) ও এলাকার চিহ্নিত জেল খাটা আসামি বিএনপি জামাত শিবির সমর্থক বিএনপি নেতা রুহুল আমিন সহ কয়েকজন সন্ত্রাসী মিলে নেশাখোর ছেলে আমিনের সহযোগিতায় বড়িঘর ভাঙচুর করে দোকানের শাটার, ঘরের টিনের চালা, দরজা, লোহার গ্রিল ছুটিয়ে নিয়ে যায়।
এসময় খালি বাড়িতে ঘরের মধ্যে থাকা ফ্রিজ, আলমারি, ১ ভরি সোনার গহনা, নগদ ১০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মেয়ের বাড়িতে থাকা বিধবা লুৎফা বেগম খবর পেয়ে মেয়েদের নিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন এবং বাড়ি-ঘর ভাঙ্গা, ঘরের চালা নেই এবং ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও গহনা নেই দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে বিস্তারিত ঘটনা জানতে পারে। তাৎক্ষনিক লুৎফা বেগম ফতুল্লা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন যার নং ৪৮৩৫।
এ অভিযোগের তদন্ত অফিসার ফতুল্লা থানার এসআই আমজাদ হোসেন জানান অভিযোগ পেয়ে আমি স্পটে যাই বাড়ি, দোকান ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। বিবাদীদের পাওয়া যায়নি তবে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে এবং আমাদের পক্ষ থেকে কোর্টে এর বিচার সমাধা না হওয়াা পর্যন্ত এই জায়গায় কোন কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এদিকে বিধবা লুৎফা বেগমের প্রশাসন ও সমাজের নেতৃস্থানীয় লোকদের কাছে আর্জি সামাজিক বিচারের আদেশ না মেনে মফিজ গংরা আমার অবর্তমানে বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here