নিহতের পরিবারের অভিযোগ পুলিশি নির্যাতনেই সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু হয়েছে

0
120

নাগরপুর (টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি: নাগরপুর মামুদনগর ইউনিয়নের জয়ভোগ গ্রামের সাবেক ইউ পি সদস্য আ.আলীমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করে সাটুরিয়া থানা এস আই মো. আ.রহিম। ঘুষ না দেওয়ায় তাকে তিন দিনের রিমান্ডে এনে মধ্যযুগীয় কায়দায় পিটিয়ে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয় পুলিশের এই পরিদর্শক। এমনই অভিযোগ করছেন নিহতের পরিবার।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত মো. আলীম অত্র ইউনিয়নের একজন সাবেক সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মাটির ব্যবসা শুরু করেন। তাতে আমাদের সংসার ভালই চলছিল। আর এ ভাল চলাই আমাদের কাল হলো। পাশের বাড়ির সবুর মিয়া ও ছনকা বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল মিয়ার পরোক্ষ সহযোগীতায় এস আই আ. রহিম মৃত আ. আলীমের নামে ০৬ জুন ২০১৮ সালে সাটুরিয়া থানায় মিথ্যা চুরি মামলা দায়ের করে। এ প্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন সন্ধ্যায় নিজ বাড়ীর পাশে চায়ের দোকান থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ গ্রেফতার করে মোটরসাইকেল যোগে থানায় নিয়ে যায় এবং ফোন করে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করে। আমরা এত টাকা ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সারা রাত ধরে তার উপর শাররীক নির্যাতন চলায়। এর পর দিন পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তখন মামলা পরিচালনা কর্মকর্তা এস আই আ. রহিম ফোন দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে তার সাথে দেখা করতে বলে। এত টাকা কোথায় পাব, আমাদের তো এত টাকা নাই। তাকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি ও ধারদেনা করে ৪০ হাজার টাকা প্রদান করি। এতে এস আই আ.রহিম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পরে এবং মৃতের ছোট শিশু কন্যার সামনেই তাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। আমরা সহ্য করতে না পারায় তাকে আরও ২০ হাজার টাকা ধারদেনা করে প্রদান করি। তবু অর্থলোভী এই পুলিশ কর্মকর্তার মন জোগাতে ব্যর্থ হই। তাকে আরও টাকা দেব বলে বাড়ি ফিরে আসি ও তাকে যেন অন্যায় ভাবে আর মারধর না করা হয় এ জন্য অনুরোধ জানাই। পরের দিন বিকেলেও টাকার ব্যবস্থা করতে না পারায় ঐ পুলিশ কর্মকর্তা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমাদেরকে থানা হতে বেরকরে দেয় ও বলে যে, আসামীকে আজ রাতেই ইচ্ছে মত বানাবো। আমাদের শত অনুরোধ সত্বেও আ. আলীমকে পুলিশের ঐ কর্মকর্তা রাতে বেধড়ক মারপিট করে । পরের দিন সকালে তাকে অর্ধমৃত অবস্থায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করে।
মৃত আ. আলীমের স্ত্রী নার্গিস বেওয়া বলেন, আমার স্বামী মৃত আ. আলীম ২৬ জুলাই ২০১৮ সালে মানিকগঞ্জ কারাগার হতে জামিন প্রাপ্ত হইয়া বাড়ীতে আসে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে মারপিট ও ক্ষত রক্ত জমাটের চিহ্ন পাওয়া যায়। বেধড়ক মারপিটে ও গুপ্ত আঘাতে তার শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পরে। সে দুপায়ে ভর দিয়ে হাটতে পারে না। শাররীক অবস্থার অবনতি হলে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য নাগরপুর শাপলা ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে আসি। ডাক্তার রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে বলেন। আমি এম্বুলেন্স যোগে ঢাকার উদ্যেশে রওনা করি। পথিমধ্যে সে মারা যায়। গুপ্ত আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এমন ধারনা থেকেই নাগরপুর থানায় এস আই আ. রহিমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অগ্রাত কারণে অভিযোগ গ্রহন করে নাই। অত:পর আমি স্বামীর জানাজা পরবর্তী কার্য সম্পূর্ণ করি। পরবর্তীতে আমি নাগরপুর থানা ও বিজ্ঞ জুডি: ম্যাজি: আমলী আদালত, টাঙ্গাইলে মোকাদ্দমা নং ২০৩/২০১৮ অভিযোগ পেশ করি। বিজ্ঞ আদালতে মামলা দাখিল করায় আসামীগন আমাকে হুমকি ধামকি দিতেছে যে,স্বামী হত্যার বিষয়ে আইনি লড়াই করলে জীবনে শেষ করে ফেলব।
তিনি আরো বলেন, আমি একজন সহজ সরল নারী ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি মৃত স¦ামীর লাশ কবর হতে উত্তোলন পরবর্তী সুরতহাল পোষ্টমার্টেম করনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি। আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ন্যায় বিচারক। তাঁর প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস আছে। আমি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে ন্যায় বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে এস আই আ. রহিমের মুঠো ফোনে (০১৭১৯-৫৪০৭৭৮)বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাগরপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মাঈন উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, মৃত আলীমের দুজন স্ত্রী। চুরি মামলায় জামিনে এসে কোন বউয়ের সাথে বসবাস করবে তা নিয়ে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ চলছিল। সে এমনিতেই মারা গিয়েছে, তাকে কেউ মারেনি।
নাগরপুর শাপলা কিøনিকের চিকিৎসক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনেক দিন আগের ঘটনা এটি, এই মুহুর্তে আমার ঠিক মনে পরছে না। আমি দূ:খিত যে বিষয়টি আমার মনে নেই।
মামুদ নগরের ইউ পি চেয়ারম্যান মো.আনোয়ার হোসেন বলেন, মৃত আ.আলীম সাবেক মেম্বার ছিলেন। ২০ বছর যাবত তার সাথে আমার পরিচয়। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তাকে কোন খারাপ কাজ করতে দেখেছি আমার এ রকম মনে পরে না। একজন মানুষ হিসেবে সে খারাপ ছিলো না। তার এই অশাল মৃত্যুতে আমার মনে হয় কারো হাত আছে। আমি যত টুকু জানি বা দেখেছি ,আলীম মেম্বার পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে তার জটিল কোন অসুখ-বিসুখ ছিলো না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here