নাগরপুরে সূর্যমুখী চাষে বাম্পার ফলন- লাভবানের আশায় কৃষকরা

0
194
মোঃ আমজাদ হোসেন রতন, নাগরপর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। কম ঝুঁকি ও লাভ ভালো পাওয়ার আশায় এ বছরে সূর্যমুখী চাষ বেড়েছে কয়েক গুণ।
সরকার কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী করে তুলছে। ডিসেম্বর মাস থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৫ মাসেরও বেশি সময় অনাবাদি হয়ে থাকা অধিকাংশ ফসলি জমি। কিছু কিছু জমিতে খেসারি ও মুশুরি ডাল চাষ হলেও তা দিয়ে খুব একটা লাভের মুখ দেখা হতো না কৃষকের। এখন সেসব জমিতেই সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হবেন নাগরপুরের অনেক কৃষক।
নাগরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২০১৭/১৮ অর্থবছরে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে স্বল্প জমিতে।
সূর্যমুখী থেকে তেলের পাশাপাশি ফুল বাগান থেকে মৌচাষেরও সম্ভাবনা রয়েছে ব্যপক। সূর্যমুখীর ফুল বড় বলে প্রচুর মধু আহরণ সম্ভব। আবার মৌচাষে প্রাকৃতিক পরাগায়নের জন্য সূর্যমুখীর ফলনও হয় বেশি।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সূর্যমূখীর চাষ করেছে কৃষকরা।
 মাত্র ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে বীজ বপন থেকে শুরু করে বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। এবং প্রতি একর জমিতে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রকার ভেদে লাভ হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। যা অন্য কোনও ফসলের চেয়ে কম পরিশ্রমে, ভালো আয়।
গয়হাটা ইউনিয়নের ঘিওর কোল গ্রামের, মোঃ শামীম হোসেন তালুকদার, দুলাল চন্দ্র সরকার, যতীষ ভট্টাচার্য এ বছর তিন বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। তারা বলেন, বছরের শুরুতে বৃষ্টি থাকায় ও আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে উন্নত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা পেলে এ চাষ আরও বাড়বে।
 সূর্যমুখী বীজের দাম বেশি, একটু কম হলে আরও অনেক কৃষক এ চাষে এগিয়ে আসতো। তবে কম পরিশ্রমে, ভালো লাভ করা যায়।
 নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, আমরা কৃষকদের মধ্যে সূর্যমুখী চাষ বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ, বীজ সরবারহ সহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি। মোট ২০ বিঘা জমিতে সূর্য মুখীর আবাদ হয়েছে।
১০ বিঘা ভারড়ায়, ঘিওর কোল ৮ বিঘা, নরদহী ১ বিঘা, বঙ্গবকুটিয়া ১ বিঘা।
ভারড়া এর ১০ বিঘা রাজস্ব প্রকল্পের প্রদর্শনী হিসেবে, বীজ, সার, সাইনবোর্ড, আন্তঃ পরিচর্যার নগদ অর্থ  দেওয়া হয়েছে। গয়হাটা সহ অন্যান্য ইউনিয়নের ১০টি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।
এই মোট ২০ বিঘা, তবে আগামীতে এর আবাদ বাড়বে।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জনাব ইমরান হোসাইন শাকিল বলেন, এ অঞ্চলে সূর্যমুখীর ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। সূর্যমুখীর চাষে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।#

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here