দশ হাজার শ্রমিকের মধ্যে কেউই ভালো নেই। নারায়ণগঞ্জ বন্দর এর দীর্ঘ ৯মাসযাবৎ ১৪ টি ডকইয়ার্ডবন্ধ থাকার কারণে

0
412

তরিক হোসেন বাপ্পিঃ নারায়ণগঞ্জ বন্দর এর দীর্ঘ ৯মাস যাবৎ ১৪ টি ডকইয়ার্ড বন্ধ থাকার কারণে প্রায় ৮/১০ হাজার শ্রমিকের কাজ কর্ম বন্ধ রয়েছে। এতে করে বেকারত্ব বাড়ছে, অসহায় হয়ে পড়েছে তাদের পরিবারের  সদস্যগণ। অপরদিকে বেকারত্ব দূর না হতেই বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস এর প্রাদুর্ভাব ও প্রাকৃতি দুর্যোগ বন্যার কারণে আরো অসহায় হয়ে পড়েছে এই নিম্নআয়ের ডকইয়ার্ড শ্রমিকরা। খেয়ে না খেয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো। এদিকে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে বন্দরে ৫০টি ডকইয়ার্ডের মধ্যে ১৪টি ডকইয়ার্ডে দীর্ঘ ৯মাস আগে  ২৪ আক্টোবর ২০১৯ইং তারিখ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাওয়াত মেহজাবীন ও বন্দরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফিফা খানের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সেই সময় বুলডোজারের আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় ডকইয়ার্ডে মালামালের গোডাউন,অফিস ও উইংস রুম এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এরই মধ্যে মাহমুদনগর কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিঃ কে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা বলেও রহস্যজনক কারণে সেই দিন কর্ণফুলী কে উচ্ছেদ না করে পাশের ছোট ছোট বাংলা ডকইয়ার্ড গুলোকে বুলডোজারের আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধই রয়েছে এই ডকইয়ার্ড গুলো কিন্তু বন্দরে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিঃ  সহ অন্যান্য ৩৫টি ডকইয়ার্ড এখনো সচল অবস্থায় আছে। উচ্ছেদ অভিযানে বন্ধ করে দেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত ডকইয়ার্ড মালিকেরা জানান দীর্ঘ ৯ মাস যাবৎ বন্দর এলাকায় সর্বমোট ১৪ টি  ডকইয়ার্ডের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত অথচ ৫০ টির মতো ডকইয়ার্ড রয়েছে এই বন্দরে যা একই সমস্যায় জর্জরিত কিন্তু কেনো আমাদের সাথে এমন নিষ্ঠাচার  করা হলো। এই বিষয় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ একেএম শামিম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ-সদর ৫ আসনের সংসদ সেলিম ওসমান ও জেলা প্রশাসক এর বরাবর বন্ধ থাকা ডকইয়ার্ড গুলো খুলে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছি ডকইয়ার্ড সকল মালিকগণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডকইয়ার্ড ম্যানাজার  ও অফিস স্টাফ জানান ডকইয়ার্ডে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর থেকে কয়েকবার বন্দর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েছে কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি বরং তারা ভূমি অফিসে কর্মরত সহকারী কমিশনার ভূমি কে দেখিয়ে দেয়। আর ভূমি অফিসে গেলে সহকারী কমিশনার ধরাছোঁয়ার বাইরে অবস্থান করে।ডকইয়ার্ড শ্রমিকদের দাবি বন্দরে ৫০ টি ডকইয়ার্ড  এর মধ্যে কেন ১৪ টি ডকইয়ার্ড  ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দীর্ঘ ৯ মাস যাবৎ স্থগিত করে রেখেছে সরকার । আমরা তো পরিশ্রম করে ন্যায্য পারিশ্রমিক দিয়ে  দু’মুঠো আহার  তুলে দিতাম আমাদের পরিবারের বাকি সদস্যদের মুখে। আমরা শ্রম করে উপার্জন করতাম কোন রাষ্ট্রবিরোধী কাজ তো আর করতাম না। এদেশের রাষ্ট্রপ্রধান স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে কেউ  বাসস্থান হারা হবে না কেউ অনাহারে থাকবে না দ্রুততার সাথে বেকারত্ব দূর করবো।মহোদয় রাষ্ট্রপ্রধান স্পষ্ট বলে দিয়েছে ঠিক সেই জায়গায় থেকে আপনারা কি মাঠ-পর্যায়ে সঠিক দায়িত্ব পালন করছেন আপনারা কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে  আলোকিত সত্যিই কি আপনার দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন জাতির বিবেকের কাছে আপনাদের প্রশ্ন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে যতটা না আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি  তার থেকে শতগুণ আপনাদের এই কৃত্তিম দুর্যোগে আমাদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছে জনাব দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে এখন। ডকইয়ার্ড শ্রমিক রফিকুল ইসলাম পেশাগত একজন ওয়াল্ডার তার জীবিকা বর্ণনা করে গণমাধ্যমকর্মীদের  বলেন আমি দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবত এই বাংলা  ডকইয়ার্ড গুলোতে কাজ   করে জীবিকার যোগান দিয়ে যাচ্ছি কখনও কল্পনাও করিনি হঠাৎ আমার  জীবিকার চাকা এভাবে থমকে যাবে।  শিপন  বলেন আমি পেশায় একজন ওয়াল্ডার ও ফিটার এখানে  ডকইয়ার্ড গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিগত এক-দেড় মাস বেকারত্ব থাকি তারপর পরিবার-পরিজনদের ছেড়ে আমার জেলার বাইরে  দূরবর্তী এলাকায় গিয়ে ২ মাস কাজ করি। কিন্তু এখন নিচু ভূমি বন্যার কারণে পানিতে তলিয়ে গেছে তাই চোখে কোন দিশা না পেয়ে আবার নিজ গ্রামে চলে আসি  সাথে কিছু আনতে পারিনি -দরিদ্রতা দুঃখ হতাশা  চিন্তা এখন আমার নিত্যদিনের সঙ্গী। সাইমন,রবিন,ফয়সাল,বাদল,সুমন,নয়ন, ডকইয়ার্ডে  কর্মরত ১০ হাজার শ্রমিকে দের মধ্যে আমরা  কেউই ভালো নেই। সুতরাং আমাদের একটাই দাবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ও স্থায়ী সংসদ সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতা দ্রুততার সাথে প্রয়োজন।

বন্ধ থাকা ডকইয়ার্ড গুলোর মধ্যে রয়েছে ১/ মেসার্স ইব্রাহিম ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস। ২/ মেসার্স শেফা ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস। ৩/ মেসার্স সাউদ ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্…৪/ মেসার্স খান ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস। ৫/ আবুল হোসেন ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস

মাহমুদনগর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী

১) সরদার ডকইয়ার্ড। ২) আল-আমিন ডকইয়ার্ড। ৩) নিউ ইসলাম ডকইয়ার্ড। ৪) সোনারতরী ডকইয়ার্ড। ৫) মাহমুদনগর ডকইয়ার্ড। ৬) জননী জোসনা ডকইয়ার্ড। ৭) স্বপন ডকইয়ার্ড । ৮) আল্লার দান ডকইয়ার্ড। ৯) মীম ডকইয়ার্ড।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here