ঠাকুরগাঁওয়ে একুশের প্রথম প্রহরে ৬ বছরের জয়তির শ্রদ্ধা

0
336
রেজাউল ইসলাম মাসুদ,  ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ

ছয় বছরের মেয়ে নাদিয়া জাহান জয়তি, একুশের প্রথম প্রহরে শহিদ মিনারে ফুল দিতে এসেছে বাবা জিবরুল আলম বাবুর সাথে। বাবাও মেয়েকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন শহিদ মিনারের সঙ্গে। বলে দিচ্ছেন শহিদ মিনারের ইতিহাস। এভাবেই ভাষা শহীদদের সঙ্গে মেয়ের সেতুবন্ধন তৈরি করছেন বাবা।

৫২ এর ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী বীর শহিদদের সম্মানার্থে একুশের প্রথম প্রহরে ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রথমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান আ’ৗীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেস চন্দ্র সেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুহা. সাদেক কুরাইশী। পরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম এর নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার মোহা. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব, ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগ এর পক্ষে সৌরভ এর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের পুষ্পর্ঘ অর্পণের পর পর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় শহিদ মিনার।

এসময় ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দেখা গেছে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা মানুষের ঢল। সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের দীর্ঘ লাইন। ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রিয় শহিদ মিনার যেন জনসমুদ্রে রূপ নেয়। সকলে গাইছেন আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভূলিতে পারি।

বাংলা ভাষার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অফুরন্ত। এ যেনো মায়ের সন্তানের প্রতি ভালোবাসা। কথা হয় প্রথম প্রহরে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড থেকে আসা নাদিয়া জাহান জয়তির সাথে, সে বলে আমি আমার স্কুলের স্যারদের কাছে শিখেছি ৫২-এর ভাষা আন্দোলন কি, আর তাই ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। ঠাকুরগাঁও গোয়াল পাড়া থেকে এসেছে ফারজানা নামে আরেক শিশু। সে বলে, দাদুর মুখে শুনেছি ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনারে ফুল দিতে হয়। তাই আপুর সঙ্গে শহিদ মিনারে এসেছি ফুল দিতে। তেমনিভাবে মায়ের হাত ধরে ৭ বছরের শিশু জহিরুলও এসেছে শহিদ মিনারে। সে জানায়, মায়ের মুখে শুনেছি ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভূলিতে পার ‘ এই গানটি গাইতে গাইতে খালি পায়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হয়…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here