চরফ্যাশন গোলদার হাট বাশিরদোন বাজার কাঁচা সড়কটি চাষাবাদের উপযোগী

0
469
মোঃ শহিদুল ইসলাম জামাল মীর জেলা প্রতিনিধি ভোলাঃ  চরফ্যাশনে গোলদার হাট-বাশিরদোন সড়কটি চাষাবাদের উপযোগী হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে কাঁচা সড়কটি নির্মান হলেও আজও ১ টুকরো বালি তো দূরের কথা মাটিও জোটেনি। এ সড়কটি ঘিরে প্রায় ৭/৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা মসজিদ গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন সড়ক দিয়ে প্রায় ২০ হাজার লোক যাতায়াত করে। গ্রামের মানুষ কোন বিপদ আপদে কিংবা অসুস্থ্য হলে রুগীদের কাধে করে হাসপাতালে নিতে হয়। ইতিপূর্বে কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা খানাখন্দ পাড়াপাড়ের সময় দূর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছে অনেকে। এমতাবস্থায় এলাকাবাসী নিরুপায় হয়ে সংস্কারের দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে অনেক ধর্না ধরেও কোন সুফল পায়নি। বিভিন্ন সরকারের পালা বদল হলেও বদল হয়নি কাঁচা সড়কের চেহারা। কোন আমলেই আমলাদের নজরে আসেনি সড়কটি।

সরেজমিনে তথ্য নিয়ে জানা যায়, গোলদারহাট বাজার থেকে সোজা দক্ষিন দিকে প্রায় ৬ কিঃ মিঃ কাঁচা সড়কটি বেড়ি বাধের বাশিরদোন বাজারে গিয়ে মিশেছে। সড়কটি দিয়ে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা, আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা, সকলেই চলাচল করছে প্রতিদিন। ৪০ বছরের মধ্যে কোন মেরামত না হওয়ায় কাঁচা রাস্তাটি মাছ চাষ ও কৃষি আবাদের উপযোগী। অপরিচিত কেউ ওই সড়কে গেলে হঠাৎ আঁতকে উঠেন রাস্তা না চাষের জমি চিনাই মুশকিল। হাটবাজার কিংবা বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে যখনি কাঁচা সড়কটি সামনে পড়ে পোষাক খুলে কোমড় বেধে বাড়ি যেতে হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা একদিন ওই সড়ক দিয়ে প্রতিষ্ঠানে গেলে পুনরায় আর ওই সড়ক দিয়ে যেতে চায় না। ফলে প্রতিষ্ঠানে যাওয়া একবারে বন্ধ করে দেয় অনেকে। রাস্তার বেহাল দশার কারনে অলস সময় কাটায় ছাত্র-ছাত্রীরা। কিন্তু কিছু জায়গায় অনেক জলাবদ্ধতা এবং কিছু জায়গায় সাকোও রয়েছে। এলাকাবাসী আলাউদ্দিন, ইউপি মেম্বার জাকির হোসেন জানান, সড়কটির বেহাল অবস্থা বিধায় বহু দেন-দরবার করেও আজও পাকা করাতে পারিনি। সড়কটিতে গত ১০ বছর পূর্বে ১টি কালভার্ট নির্মান হয়েছে। বর্তমানে কালভার্টের অবস্থা খুবই নাজুক। কালভার্টের গোড়ায় নেই কোন মাটি। মাটি না থাকায় শিশু কিশোর কিংবা বৃদ্ধরা কালভার্ট পাড়াপাড় হতে পারছে না। তৎকালীন ঠিকাদারের গাফলতিতে ওই কালভার্টের গোড়ায় কোন মাটি দেয়া হয়নি। যার ফলে রিক্সা তো দূরের কথা মানুষই চলাচল করা অসম্ভব। কিন্তু কালভার্ট নির্মাণ দেখেও না দেখার ভান করে চলেছে। কর্তৃপক্ষ রয়েছে উদাসীন।
এলাকার লোকমান, রতন রাড়ী সহ শতাধিক লোক জানান, সড়কটিকে ঘিরে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এগুলো হচ্ছে- হাজারীগঞ্জ ফাযিল মাদ্রাসা, খাসের হাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেয়ারম্যানহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ছেলামত চেয়ারম্যান বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোট কেন্দ্র), চেয়ারম্যানহাট দাখিল মাদ্রাসা, বাহারুল উলুম এবতেদায়ী মাদ্রাসা সহ ১০/১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
চেয়ারম্যানহাট দাখিল মাদ্রাসার সুপার জানান, বর্ষা মৌসুমে রাস্তার বেহাল দশার কারনে মাদ্রাসার অধ্যায়নরত প্রায় ৭/৮ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা থাকলেও তা অর্ধেকে নেমে আসে। রাস্তা দিয়ে আসার সময় কাদা-পানিতে ভিজে একাকার হয়ে যায়। তাই একদিন মাদ্রাসায় এলে পড়ের দিন আর আসতে চায় না। রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ন হওয়ায় দ্রæত পাকাকরণ আবশ্যক। অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন জানান, সড়কটি কাঁচা থাকার কারনে আমাদের কলেজের ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি কমে গেছে। জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি পাকা করা দরকার।
হাজারীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম হাওলাদার জানান, সড়কটি পাঁকাকরণের জন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। তবে সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ।
উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা জানান, কাঁচা রাস্তাটির বর্তমান অবস্থার খোজ খবর নিয়ে পাকা করনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here