চট্টগ্রাম কলেজে হিজাব নিয়ে কটুক্তি!

0
100

স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রাম কলেজে একাদশ শ্রেনীতে কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করীম কতৃক মুসলমানদের ফরজ বিধান বোরকা, হিজাব নিয়ে কটুক্তি ও বাধা প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যান্য দিনের মত গত ২রা ফেব্রুয়ারী ছাত্রীরা হিজাব পরিধান করে নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করলে রেজাউল করীম হিজাবকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও কটাক্ষ করে একাধিক বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেন । এবং একাধিক ছাত্রীকে হিজাব খুলতে বাধ্য করেন।

এদিকে হিজাবের মতো ধর্মীয় একটা পালনীয় বিষয়ে শিক্ষকের অযাচিত হস্তক্ষেপে ভুক্তভোগী ছাত্রী, অভিবাবকদের তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করতে দেখা যায়। ছাত্রীদের দাবী ক্লাসরুমে হিজাব পরিধানে বাধা প্রদান ব্যক্তিগত পোশাকে হস্তক্ষেপ ও ধর্ম অবমাননার শামিল। তারা দ্রুত এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্রী জানান- “প্রতিদিনের ন্যায় আজও আমরা আমাদের নিয়মিত ইসলামের ইতিহাস ক্লাসে উপস্থিত হয়। কিন্তু আজ আমাদের নিয়মিত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম স্যারের পরিবর্তে রেজাউল করিম স্যার আসেন। ওনি এসে ক্লাসে নাম ডাকা শুরু করেন নাম ডাকার সময় আমাদের এক বান্ধবীকে হিজাব পরিহিত অবস্থায় দেখে তাকে ক্লাসের পেছনের দিকে গিয়ে বসতে বলে, পরবর্তিতে আরো বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে হিজাব পরিহিত অবস্হায় দেখে ওনি রাগান্বিত হয়ে উঠেন এবং হিজাব সম্পর্কে আজে-বাজে মন্তব্য করা শুরু করে দেন, ওনি আরো বলে এটা বাংলাদেশ। ইরান,পাকিস্তান বা কোন ইসলামী রাষ্ট্র না এখানে হিজাব পরা যাবেনা আমার ক্লাসে আসলে হিজাব খুলে ক্লাস করতে হবে নয়তো ক্লাস করা যাবে না,এক পর্যায় ওনি আমাদের হিজাব খুলতে বাধ্য করেন।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্র বলেন- “রেজাউল স্যার আগেও একদিন আমাদের ক্লাসে আসছিল ওই দিনেও ওনি পর্দা ও ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন অনুশাসন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন কিন্তু আজ একেবারে হিজাব পরিহিত ছাত্রীদের হিজাব খুলতে বাধ্য করেন যা দেখে আমরা সকলেই হতভম্ব হয়ে গেছি।”

প্রসংগত চট্টগ্রাম কলেজে বহুকাল ধরে ছাত্রীরা শালীন পোশাক পড়তে অভ্যস্ত। ইতিপূর্বে পর্দা বা হিজাব পরিধানে কোনপ্রকার বাধা সৃষ্টির নজির নেই। পর্দা বা হিজাব কলেজ প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত পোশাক । তা সত্তেও অধ্যাপক রেজাউল করীম কর্তৃক পর্দার মতো ফরজ বিধানে সরাসরি হস্তক্ষেপ ধর্মপ্রাণ মানুষদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হতে পারে এবং তা বিরুপ পরিস্থিতিও ডেকে আনার সম্ভাবনা আছে । তাই সচেতন মহল আশা করছে সার্বিক পরিস্থিতি অনুধাবন করে কলেজ প্রশাসন এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।

বিপ্লবী বাংলাদেশ/ সোহাইল আহমেদ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here