গঙ্গাচড়ায় এতিমখানার অর্থ হরিলুট করে হাফেজ হায়দার আল এখন প্রায় ১৫ কোটি টাকার মালিক!

0
385

চিপব্যুরো রংপুর: এতিমখানার শিক্ষক থেকে পরিচালক হলেন হাফেজ হায়দার আলী। জিরো থেকে হিরো।চাকরি শুরুর অল্পদিনের ব্যবধানে এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করে বানিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকার অটো মেশিন। অথচ তার মাসিক বেতন মাত্র ৯হাজার৮০০টাকা।রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালিকচুয়া ইউনিয়নের সর্দারপাড়াগ্রামে কাতার চ্যারি টেবলফান্ডের সহযোগিতায় খোবাইব ইবনে আদি (রা:) পরিচালক হাফেজ হায়দার আলী।  অনুসন্ধানে জানা যায় পূর্বের পরিচালককে ষড়যন্ত্র করে সুকৌশলে ২০১১ সালে বাহির করে দিয়ে তিনি নিজেই পরিচালকের দায়িত্ব নেয় । একপর্যায়ে এতিমদের অর্থ লুট করে স্ত্রী-সন্তানদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রাখে এবং শূন্য থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকার অবৈধ অর্থ সম্পদের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায় কাতার চ্যারিটি দাতা গোষ্ঠীর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির ভরণপোষণ, থাকা-খাওয়া, শিক্ষক কর্মচারীর বেতনভাতা সহ সার্বিক খরচ দাতা সংস্থাটি প্রদান করে। দাতা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রের সংখ্যা ৩২৮ ও ছাত্রী সংখ্যা ৯৫ জন। মোট শিক্ষার্থী ৪২৩ জন।প্রতি ছাত্র ছাত্রীর ভরণ-পোষণের জন্য প্রতি মাসে ৩হাজার ১০০ টাকা প্রদান করে দাতা সংস্থাটি। সে অনুযায়ী মাসে ভরণপোষণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রায়১৩ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকা। এতিমখানার প্রকৃত ছাত্র ১৯০ জন ও ছাত্রী ৪০ জন। প্রকৃতপক্ষে ২৩০ জন শিক্ষার্থী ভরণ-পোষণের টাকা পেয়ে থাকে অতিরিক্ত ১৯৩ জন শিক্ষার্থী ভুয়া ভাউচার ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট দেখিয়ে প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছে৫ লাখ ৯৮ হাজার৩০০ টাকা। যা এক বছরে৭১ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা। এছাড়া ও হাফেজ হায়দা আলীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের বিল্ডিং গাছ ও পুকুরের মাছ বিক্রি পুরাতন মসজিদের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে মসজিদ তৈরি করে বিল ভাউচার জমা দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নোহালী কচুয়া ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটু বলেন, অদৃশ্য কারণে যোগ্যতা না থাকার পরেও হাফেজ হায়দার আলী ২০১১ সালে এতিমখানার পরিচালকের দায়িত্ব পান। এরপর থেকে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে টাকার অটোমেশিনে। পৈত্রিক সূত্রে পিতা আব্দুর রাজ্জাক এর কাছ থেকে হাফেজ হায়দার আলী পান মাত্র ২০ শতক কৃষিজমি। এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ এলাকায় কৃষি জমিকিনেছেন৭ একর যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। গ্রামের বাড়িতে কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ তলা বিশিষ্ট৪ হাজার স্কয়ার ফুটের একটি বাড়ি নির্মাণ করে। বাড়ির আসবাবপত্র ও ফার্নিচার বিদেশ থেকে অর্ডার দিয়ে আনা যার আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকার উপরে। রংপুরের অভিজাত এলাকা মেডিকেল মোড়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের জমির উপর ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সেখানেও প্রায়২০ লাখ টাকার দামী ফার্নিচার। দুর্নীতিবাজ হাফেজ হায়দার আলী রংপুর শহরে আরো প্রায় ২ কোটি টাকার মূল্যের জমি কিনেছেন এই প্রতারক। তিনি যে মোটরসাইকেলটিতে যাতায়াত করেন তার মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকার উপরে । তার বিরুদ্ধে সব মিলেপ্রায়১৫ কোটি টাকার উপরে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ উঠেছে। এতিমখানার পরিচালক হায়দার আলীর মাসিক বেতন ৯৮০০ টাকা। তার এক বছরের বেতন আসে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা, যা তার চাকরির বয়সের ৯ বছরের দাঁড়ায় ১০ লাখ ৫৮ হাজার৪০০টাকা। এই বেতনে ১৫ কোটি টাকার সম্পদ কিভাবে সম্ভব? তা খতিয়ে দেখা এখন সময়ের দাবী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here