কুষ্টিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি!! প্লাবিত হতে পারে নতুন নতুন এলাকা

0
1025

সাইফুল ইসলাম, ভেড়ামারা(কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়া হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদ সীমার ১৪.২৫ পেরিয়ে ২ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বর্তমানে ১৪.২৭ সে.মি পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গত দুই-তিন দিন যাবৎ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এবং খোকসার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এছাড়ার নদী ভাঙ্গন অব্যাহত আছে। ভারতে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে রেকর্ড বৃষ্টিতে উপচে পড়েছে বাঁধের জল। ফলে ফারাক্কা বাঁধের সব কয়টি লকগেট এক সঙ্গে খুলে দিয়েছে ভারত। সোমবার ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি লকগেট খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে মুর্শিদাবাদ একাংশ ও বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গেট খুলে দেওয়ায় নদীর নিম্নগতিতে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে গঙ্গা ছাড়াও পানি বেড়েছে মালদা জেলার ফুলহর, মহানন্দা ও কালিন্দী নদীতে। ভারত ফারাক্কা বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় দ্রুত পানি বাড়ছে পদ্মায়। এতে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন চর ও নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় মানুষের মাঝে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছি।বর্ষা মৌসুমে এমনিতেই পানিবন্দি থাকতে হয়। এর উপর ভারত ফারাক্কার সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় প্লাবিত হয়েছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার চরের বিস্তীর্ণ এলাকা। পানিবন্দী প্রায় এক লাখ মানুষ। বাড়িঘরে পানি, ডুবে গেছে ফসল শুকনো মৌসুমে ধু ধু বালুচর। বর্ষায় ঠিক উল্টো। পানিতে থৈ থৈ। প্রমত্ত পদ্মার মাঝখানে বড় একটি চর। এই চর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, মরিচা ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত।বর্ষায় বদলে গেছে এখানকার জীবনযাত্রা। চলাচলের একমাত্র মাধ্যম নৌকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারত ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়ায় গঙ্গার পানি চলে আসছে বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে। ফলে রাজশাহীতে পদ্মায় পানি প্রবাাহ বিপদসীমার ১৮ দশমিক ৫০ মিটারের কাছাকাছি চলে এসেছে।
রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি পয়েন্টে পাউবোর অফিস সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীতে পদ্মায় প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ দশমিক শূন্য এক মিটার। এর আগে সকালে প্রবাহ ছিল ১৭ দশমিক ৯০ মিটার। প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ২ সেন্টিমিটার করে পানিপ্রবাহ বাড়ছে পদ্মায়।
অপরদিকে চরম বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে গঙ্গা ও ফুলহর নদী। ইতোমধ্যে একাধিক জায়গায় নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এদিকে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩৪ জন মারা গেছে। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here