কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সরকারি সহযোগিতায় আখচাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

0
81

সাইফুল ইসলাম, ভেড়ামারা(কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
আখের ভালো দাম পাওয়ায় এবং আখ বিক্রির টাকা প্রাপ্তি সহজলভ্য হওয়ায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চাষিদের মাঝে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। অনেক চাষি বিষবৃক্ষ তামাক চাষ বাদ দিয়ে এখন আখ চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। কুষ্টিয়ার জগতি সুপার মিল কর্তৃপক্ষ ২০১৯-২০  আখ মাড়াই মৌসুম শুরু আগেই মাঠে নামে। তাঁরা প্রশিক্ষণ, সভা-সমাবেশ, উঠান ছাড়াও নানাভাবে আখ চাষিদের সাথে মত বিনিময় করে চলেছেন। মিল প্রশাসন বলছে চলতি মৌসুমে মিল জোন এলাকায় পর্যাপ্ত আখ রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যদি অবৈধ পাওয়ার ক্রাশারে (গুড় তৈরির জন্য মেশিন) যাতে চালাতে না পারে সে ব্যপারেও রেখেছে সজাগ দৃষ্টি।
আখ একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল, যা জমিতে প্রায় ১৩-১৪ মাস থাকে। দেশে খাদ্যাভাব যখন কম ছিল, তখন আখচাষ বেশ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু মূল্য কম, ব্রিকির জটিলতা দালাল সিস্টেম বিক্রির পরে টাকা পেতে ভোগান্তি ইত্যাদি কারণে আখ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল চাষি। কিন্ত সেইসব সমস্যা বতৃমানে নেই। এছাড়াও আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে আমরা ডাল জাতীয় ফসলের মধ্যে মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর, মুগ ইত্যাদি। মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন ও তেল ফসলের মধ্যে তিল, তিসি, সরিষা, বাদাম ইত্যাদি চাষ করা যায়। সাথী ফসল চাষে জমির ব্যবহার বৃদ্ধি ও জাতীয় উৎপাদন বেড়ে যায়।   উপজেলার কয়েকজন চাষি জানান, আখ চাষে সার ও কীটনাশক তেমন ব্যবহার করতে হয় না। অল্প ব্যয়ে ব্যাপক সফলতা পাওয়ায় কৃষকরা আখ চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বাহাদুরপুর ইউনিয়নের পরানখালী গ্রামের আখচাষী হাসেম আলী জানান, সরকার আখের বীজ, সার ও ঋণ দিয়ে সাহায্য করছেন এবং আখ বিক্রি করে টাকা পেতে এখন আর কোনঝামেলা নেই। এজন্য আমরা তামাক চাষ ছেড়ে আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছি। মোকারিমপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণ গ্রামের আখ চাষি ইসমাইল বিশ^াস এ বছর ৭০বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। তিনি জানান, জগতি সুগার মিল কর্তৃপক্ষ আমাদের সকল প্রকার সহযোগিতা দিচ্ছে। আখ বিক্রির ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে মোবাইলে শিউর ক্যাশের মাধ্যমে আমরা টাকা পেয়ে যাচ্ছি। আগের মত দালাল ধরা লাগে না। মোকারিমপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার ও আখ চাষি আব্দুস সাত্তার বলেন,সরকারী সহযোগিতা পেয়ে আমরা পূণরায় আখ চাষে ফিরে এসেছি। তিনি এবার ১২বিঘা জমিতে আখচাষ করেছেন।
কুষ্টিয়ার জগতি মিল কর্তৃপক্ষের আওতায় ২০১৯-২০ আখ মাড়াই মৌসুমে ভেড়ামারা উপজেলায় ১০টি আখক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। দামুকদিয়া আখ ক্রয় কেন্দ্র-২ এর ইনচার্জ মোঃ মুশফিকুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, চাষিদের আখ চাষে আগ্রহী করার জন্য আমরা প্রশিক্ষণ, সভা-সমাবেশ, বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান রৈঠক ছাড়াও নানাভাবে আখ চাষিদের সাথে মত বিনিময় করছি। এছাড়াও কৃষকদের ভর্তুকিমূল্যে সার, বীজ  কীটনাশক জমি চাষের ট্রাকটর এবং ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এ মৌসূমে ভেড়ামারা উপজেলায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩হাজার ৪শত একর জমি এবং উৎপাদন ২৮হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন আখ। আখ ক্রয়কেন্দ্র ভেড়ামারা সাবজোনের প্রধান তোজাম্মেল হোসেন বলেন, আশা করি লক্ষ্য মাত্রা পূরণ হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here