কিশোরগঞ্জে নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা সুপার আবদুল মতিনের বিরুদ্ধে

0
56

রংপুর প্রতিনিধি ঃ
নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা রণচণ্ডী ইউনিয়নের অবিলের বাজার শামসুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা সুপার আবদুল মতিনের নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

গত রোববার (৪এপ্রিল )২০২১ ইং তারিখে সকাল ১১ টার দিকে রণচণ্ডী অবিলের বাজারে মাদ্রাসার মাঠে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ করে বলেন অত্র মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ আনারুল ইসলাম , সুজা মিয়া , আসাদুল হক ও আব্দুল্লাহ জানায়, আমরা কমিটিতে আসার প্রায় তিন মাস পর জানতে পারি সুপার আব্দুল মতিন এর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভুয়া ছিল। কারণ যে কমিটির মাধ্যমে তিনি নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন, নিয়োগ কালীন সময় উক্ত কমিটির মেয়াদ ছিল না। কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২২/১২/২০১৮ ইং তারিখে অর্থাৎ তার নিয়োগের ২মাস১১দিন পূর্বে। কিন্তু মোঃ আব্দুল মতিন নিয়োগ পান ২/৩/২০১৯ ইং তারিখে। পরবর্তী কমিটি বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয় ১০/১/২০১৯ ইং তারিখ এবং প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ১০/২/২০১৯ ইং তারিখ এটা কিভাবে সম্ভব?

অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোঃ মাহাতাব উদ্দিন জানায় ,আব্দুল মতিন এর নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সুপার ভালো জানেন।

ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতি না থাকায় ওই স্বীকৃতির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নিয়োগ নেন তিনি।

নিয়োগ জালিয়াতির বাণিজ্যের মাধ্যমে জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম আর প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করে বানিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকার অটো মেশিন।

ব্যবস্থাপনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ নবীবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করে বলেন , নিয়োগ দেওয়া ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৩ শে ডিসেম্বর। ওই প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির মেয়াদ ছিল ২০১৪ সালের ৩০ শে জুন পর্যন্ত।

অনুসন্ধানে জানা যায় নতুন কমিটি আসার পর প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নবায়নের মেয়াদ ছিল ০১ জুলাই ২০১২ ইং তারিখ হইতে ৩০শে জুন ২০১৪ ইং তারিখ পর্যন্ত।

আব্দুল মতিন নিয়োগ নেওয়ার স্বার্থে ভারপ্রাপ্ত সুপারের যোগসাজশে ভুয়া স্বীকৃতি নবায়নের কাগজ তৈরি করে বিজি মহোদয়ের প্রতিনিধি নিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

উক্ত ভুয়া স্বীকৃতির মেয়াদ ১/১/২০১৪ ইং তারিখ হইতে ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখ পর্যন্ত যার স্মারক নং- রিক/নবায়ন ২২৫২০১২৫০৩২১/নথি নং৫২২২।

তিনি নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার পর ২০শে আগস্ট ২০২০ ইং তারিখে স্বীকৃতি নবায়নের আবেদন করকরেন

যাহার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং তারিখে ১জানুয়ারি ২০১৪ ইং তারিখ থেকে ৬সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং তারিখ পর্যন্ত মোট সাত বছরের স্বীকৃতি নবায়নের অনুমোদন হয়।

এবং ৩০শে জুন ২০১৪ ইং তারিখ হইতে ৬সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং তারিখ পর্যন্ত অত্র মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নবায়ন ছিল না।
তাছাড়া সুপার পদে আবেদনকারী ৬ জনের মধ্যে ৩ জনের আবেদনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ এবং আবেদনের তারিখ সঠিক ছিল না।কিন্তু তারপরও তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

এমতবস্থায় নিয়োগপ্রাপ্ত সুপার নিয়োগ কার্যক্রম জাল স্বীকৃতি নবায়নের উপর ভিত্তি করে নিয়োগ কমিটি কর্তৃক নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা যায়।

সুপার আব্দুল মতিন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের একজন সক্রিয় জামায়াত কর্মী এবং বিভিন্ন নাশকতার মামলার আসামি হয়ে বিভিন্ন সময়ে জেল খেটেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

ব্যবস্থাপনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি নবিবুর রহমান মহাপরিচালক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ গত ১১/২/২০২১ ইং তারিখে দেন যাহার নথি নং -২৮৯৩।
তাছাড়াও তিনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে রেজিস্ট্রার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ গত১৪/২/২০২১ ইং তারিখে দায়ের করেন।যার অ্যাপ্লিকেশন আইডি নং ২৩৩২১১২৫০২৭১। বর্তমান কমিটির সদস্যরা জেলা প্রশাসক নীলফামারী বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গত -২৪/২/২০২১ ইং তারিখে ,যাহার নথি নং ২১-২৪০৪৮।

এ বিষয়ে সুপার আবদুল মতিনকে একাধিকবার ফোনে কল দিলে রিং হয় কিন্তু ফোন রিসিভ করেনি।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কিশোরগঞ্জ মোঃ নুরুল আমিন শাহ্ এ বিষয়ে বলেন আমি অভিযোগ পেয়েছি খুব দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here