কাজিপুরে মৎস্যজীবিদের ত্রাণের চাল নেতাদের পেটে, চেয়ারম্যান জানেন না কিছুই

0
119
ইসমাইল হোসেন রাশেদ:
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের মৎস্যজীবি জেলেদের ত্রানের চালে নেতাদের পেট ভরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ত্রাণের ব্যাপারে কোনোকিছুই জানেন না খোদ ইউপি চেয়ারম্যানও। চরগিরিশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব যোগসাজশে ত্রানের চাল লুটপাট করেছে বলে কর্মহীন জেলেদের অভিযোগ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০১৪ সালে উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে চরগিরিশ ইউনিয়নে ১৩৪ জন প্রকৃত জেলের নিবন্ধিত করা হয়। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন জেলেদের জনপ্রতি দু’মাসের জন্য ৬৫ জন জেলের নামে ৮০ কেজি করে সরকারি চাল বরাদ্দ আসে। মার্চ ও এপ্রিল মাসের জন্য তাদের সর্বমোট বরাদ্দ ৫ হাজার ২০০ কেজি চাল। বরাদ্দকৃত চালগুলো খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করেন চরগিরিশ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব খোরশেদ আলম। জেলেরা চাল উত্তোলনের কথা জানলেও বিতরণের তথ্য তাদের অজানা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, করোনাভাইরাসে কর্মহীন জেলেদের জনপ্রতি দু’মাসের ৮০ কেজি করে চাল নামেমাত্র দু-য়েকজনকে দেয়া হয়েছে। নেতাদের পছন্দমত কয়েকজনকে দিলেও পরিমানও কম। বাদ পড়া জেলেরা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও নেতাদের সাথে ত্রানের জন্য বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি।
নিবন্ধিত জেলে হাফিজুর, শাহীন রেজা, জয়নাল আবেদীন, সাদ্দাম হোসেন, রাসেল মিয়াসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, আমাদের নামে ত্রাণসামগ্রী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিল্টন তালুকদার ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল মালেক বিএসসি, কৃষক লীগ নেতা সুবাত মন্ডল ও যুবলীগ  সভাপ‌তি সুমন মিয়ার যোগসাজশে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। আমরা ত্রাণ চাইতে গেলে নেতারা
ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দেন।
তারা আরো বলেন, নদী থেকে মাছ ধরে বিক্রি করে আমাদের জীবন বাঁচাতে হয়। করোনার মধ্যে ঘরের বাইরে যেতে পারিনা। সরকার আমাদের নামে ত্রাণ দিয়েছে, সেটাও যদি নেতাদের পেটে যায় তাহলে আমরা খাবো কী!
এ ব্যাপারে ইউপি সচিব খোরশেদুল আলম বলেন, সরকারিভাবে ৬৫ জন জেলেদের সহায়তার জন্য ৫ হাজার ২০০ কেজি চাল বরাদ্ধ আসে। সেগুলো আওয়ামী লীগ নেতা মিল্টন তালুকদার ও আব্দুল মালেক বিএসসি, কৃষকলীগ নেতা সুবাত মন্ডল ও যুবলীগ নেতা সুমন মিয়াকে বিতরণের দায়িত্ব দেয়া হয়। সেখানে ১৪ জন নিবন্ধিত জেলেকে বাদ দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেন। পরে যাদের তালিকায় নাম নেই তাদের কাছ থেকে ত্রাণগুলো ফেরত নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে রাখা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
অভিযুক্ত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মালেক বিএসসি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অনিয়ম করি নাই। অনেক ধনী ব্যক্তিও নিবন্ধিত জেলের তালিকায় নাম দিয়েছে। তাদেরকে বাদ দিয়ে প্রকৃতদের ত্রাণ দিয়েছি। তবে বিতরণে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই তালিকায় নামহীনদের কাছ থেকে ত্রাণ ফেরত নিয়ে পরিষদে রাখা হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হক মিন্টু মিয়া জানান, চাল বিতরণে আমাকে রাখা হয়নি। ২০-২৫ জন জেলেকে ত্রাণ দেওয়া হয়নি এমন অভিযোগ শুনেছি। বিগত দিনগুলোতে এমন অনিয়ম হয়নি। কার্ডধারী জেলেদের চাল না দিয়ে যারা ভোগ করেছে, সেটা ঠিক করেনি।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, জেলেদের ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। ত্রাণগুলো ফেরত নিয়ে প্রকৃত কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ করতে ইউনিয়নের সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।