থানচিতে শুভ প্রবারণা পূর্নিমার উৎসব উদযাপনের অপেক্ষায় বৌদ্ধ সম্প্রদায় আদিবাসীগণ

0
106

সাথোয়াইপ্রু মারমা,থানচি প্রতিনিধি: বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও উদযাপিত হতে যাচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্নিমা। এই উৎসবকে ঘিরে উপজেলায় পল্লীতে পল্লীতে নানান কর্মসূচিতে ব্যস্ত বৌদ্ধ সম্প্রদায় আদিবাসীগণ। বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্নিমা বহুকাল ধরে পালিত হয়ে আসছে আজ অবধি। এই দিনটি বৌদ্ধদের অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যময় দিন। প্রসঙ্গত, বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘ আষাঢ়ী পূর্নিমা থেকে আশ্বিনী পূর্নিমা পর্যন্ত দীর্ঘ তিন মাস বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই বিধান করেছিলেন। এই দীর্ঘ তিন মাস বর্ষাবাস সমাপনান্তে ভিক্ষু সংঘের আপন আপন দোষ ত্রুটি স্বীকারপূর্বক অপর ভিক্ষু সংঘের কাছে প্রকাশ করেন এবং তার প্রায়শ্চিত্ত বিধানের আহবান জানান। অর্থাৎ ভিক্ষুরা জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে যে কোনো অপরাধ করে থাকলে সেই অপরাধ স্বীকারপূর্বক প্রবারণা দিবসে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কারণ দৈনন্দিন জীবনাচারে চিত্ত নানা কর্ম অকুশলে আবিষ্ট হয়। তাই প্রতিটি মুহূর্তে চিত্ত জাগ্রত রেখে গুনের প্রতি আকৃষ্ট থাকার জন্যই এই প্রবারণা প্রবর্তন করা হয়। বুদ্ধের জীবদ্দশায় শ্রাবস্তীর জেতবন বিহারে অবস্থান কালে তিনি ভিক্ষু সংঘের পালনীয় কর্তব্য হিসেবে এ প্রবারণা প্রবর্তন করেন। এই প্রবারণা পূর্নিমায় বৌদ্ধরা সব ভেদাভেদ ভুলে পরস্পর পরস্পরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পারস্পরিক একতা, মৈত্রী ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ভাব নিয়ে একে অপরের আলিঙ্গন করেন। হৃদয়কে বড় করে, চিত্তকে  বিলিয়ে দেন। এতে মনের মলিনতা দূর হয়। ধর্মীয় অনূভুতি জাগ্রত হয়। এই প্রবারণা পূর্নিমা আগমনে বৌদ্ধরা এক-দুই সপ্তাহ আগে থেকে নানান ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকেন। তারই ধারাবাহিকতায় থানচিতে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় নানান ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন স্থানীয় বৌদ্ধরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পল্লীতে পল্লীতে ফানুস বাতি বানানো কাজে ব্যস্ত তারা। উল্লেখ্য যে, তথাগত গৌতম বুদ্ধ দীর্ঘ সাধনার পর তিনি নিজেকে বুদ্ধ হিসেবে পরিপূর্ণ কিনা যাচাই করার জন্য তাঁর মাথার চুল কেটে আকাশের দিকে ছুরে মেরেছিলেন। পরবর্তীতে দেখা যায় তাঁর চুল আর মাটিতে পড়েনি। এরপর থেকে বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায় প্রবারণা পূর্নিমা তিথিতে ফানুস বাতি উড়িয়ে গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করেন। এছাড়া বিহার প্রাঙ্গণে হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন সহ নানা রকমের ধর্মীয় কর্ম সম্পাদন করে থাকেন। প্রবারণা তিথিতে বৌদ্ধরা হরেক রকমের পিঠা বানিয়ে থাকেন। এছাড়া রথযাত্রা সহ একটা বিশাল আকারের ময়ূর মূর্তি বানিয়ে তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এই প্রবারণা তিথিতে তাদের নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে বিহারে ধর্মদেশনা করেন। এভাবেই প্রতি বছর উদযাপিত হয় বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্নিমা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here